[9] বৈদিক সংহিতা ও বিশ্ব ঐকতানতার সুর ( The Melody of Vedic Samhita and Divine Harmony )
প্রবন্ধ সম্পর্কিত তথ্য (ARTICLE INFO): জমাদানের তারিখ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সংশোধিত: ০৮ মার্চ ২০২৬ গৃহীত: ১০ মার্চ ২০২৬ CrossRef D.O.I: https://doi.org/10.56815/ijmrr.v5i3.2026.96-104, কীভাবে উদ্ধৃত করবেন (How To Cite): Dipankar Barman (২০২৬). বৈদিক সংহিতা ও বিশ্ব ঐকতানতার সুর. International Journal of Multidisciplinary Research & Reviews, 5(3), 96–104.
Abstract
সংক্ষিপ্তসার: বেদ ভারতীয় সমাজ, সংস্কৃতি ও সংস্কারের কেন্দ্রবিন্দু ও আখিল ধর্মের আধারের মূলভিত্তি। যার মাধ্যমে প্রতিধ্বনিত “বসুধৈব কুটুম্বকম্” যা সমগ্র বিশ্বচরাচর জীবজগতকে একটি পরিবার প্রদান করে। এই শান্তি সমতার মধ্যে একাত্মতা, সংঘ হতে সত্যের অনুসন্ধান ও দার্শনিক ভিত্তির কেন্দ্রবিন্দু। এই জগতের সর্বকার সুখ ও দুঃখের প্রতিচ্ছবি ব্যক্তির জীবনে চিহ্ন বা সংস্কার রেখে যায়। এই চিহ্ন বা সংস্কারই ব্যক্তির চরিত্র। তেমনি বৈদিক সংস্কারের ভিত্তিতে আর্যধর্ম প্রতিষ্ঠিত। ধর্মের গোড়ামী ও কুসংস্কারের স্পর্শ থেকে মুক্ত আর্যসংস্কৃতি। সামাজিক ও মানবিক কল্যাণের সর্বোত্তম জ্ঞানের অমৃত বাণী, বিশ্বের একতানতার সুরের গীতি “যত্র বিশ্বং ভবত্যেকনীড়ম্” ধ্বনিত হয়েছে। সমাজ বিভাজনের এই বিষয়ে অবগত যে অতি প্রাচীনকালের মিশরীয়, সুমেরীয় ও মায়াসংস্কৃতির অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ অসাম্য ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা। রোমান ধর্মের উত্থানে অন্যধর্মের পতন নিশ্চিত করল। কিন্তু আর্যধর্ম এই ধ্বংসের বিপরীত উপনিষদের ত্যাগের ভাবনার বিকশিত বাণী— “মা গৃহঃ কস্যস্বিদ্ধনম্” অর্থাৎ কোনরূপ ধনের আশা না রেখে ত্যাগের দ্বারা ভোগ সাধন কর। বর্তমানে বাহিরের দিকে দৃষ্টিনিক্ষেপ করলে দেখায় ধর্মে ধর্মে হানাহানি ও দমনমূলক প্রবণতা। যার স্থান ভারতীয় ধর্মশাস্ত্রে বিরল। এই অর্থে সর্বোচ্চ শীর্ষস্থান অধিকার ও সর্বজন স্বীকৃত হয়েছে আর্যধর্ম। সুপ্রাচীন কালের বৈদিক সমাজের সংস্কার ও সংস্কৃতি কি পারে বিশ্বভ্রাতৃত্বের একবদ্ধরূপ একমঞ্চের বার্তা প্রেরণ করতে? বৈদিক ধর্মের মুখনিঃসৃত সংলগ্নসুর, পৃথিবীব্যাপী এগুলির মন্ত্রধ্বনি একতানতার সুরে গীত একসাথে চলা একসাথে বলার ইশারা কি বিশ্বের সহযোগ সাধন ঘটাতে সক্ষম? সেই একতানতার উদ্দেশ্য চরিতার্থে বিশ্বের দরবারে বৈদিক সংস্কৃতি ও ভারতীয় ধর্মের কণ্ঠধ্বনি— “কেবলোমে ভতি কেবলাদি”। এই সহমিলিত আত্মভূতির উর্ধ্বে মানবকল্যাণের বার্তা প্রেরণে সক্ষম। যা বিশ্বের সকল ধর্মাবলম্বীর কাছে প্রেম অর্থে গৃহীত হয়েছে। এই মন্ত্র শান্তির গৌরবে পুনরায় ভারতবর্ষ বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ আসন আসীন হয়ে রবে।













