ন্যায়ামৃত ও অদ্বৈতসিদ্ধি অবলম্বনে মোক্ষ বিষয়ক বিচার
মধ্যাচার্য ব্রহ্মসূত্রের উপর যে ভাষ্য রচনা করেন সেই ভাষ্য দ্বৈতভাষ্য নামে প্রসিদ্ধ। মধ্যাচার্যের ভাষ্য অনুসরণ করিয়া পরবর্তীকালে আচার্য জয়তীর্থ, আচার্য ব্যাসতীর্থ, রামাচার্য, শ্রীনিবাসাচার্য প্রমুখ মাধ্ব আচার্যগণ অদ্বৈত গ্রন্থসমূহকে সূক্ষ্মভাবে খণ্ডন করেন। এই কারণে পরবর্তীকালে মাধ্ব গ্রন্থসমূহই অদ্বৈতবাদের বিরুদ্ধে পূর্বপক্ষরূপে বিবেচিত হইয়া থাকে। নব্য বৈদান্তিকদের নিকট মাধ্ব পক্ষই প্রধান পূর্বপক্ষরূপে বিবেচিত হইত। মাধ্ব আচার্য ব্যাসতীর্থ বিরচিত ন্যায়ামৃত গ্রন্থ অবলম্বনে মুক্তি বিষয়ে অদ্বৈত মতের বিরুদ্ধে যে মাধ্ব সম্প্রদায়ের আপত্তিসমূহ তাহা বিস্তৃতরূপে উপস্থাপিত হইবে। দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে অদ্বৈতসিদ্ধি অবলম্বনে আচার্য মধুসূদন সরস্বতী বিরচিত অদ্বৈতসিদ্ধি অবলম্বনে এই সমস্ত মাধ্ব আপত্তি খণ্ডন করা হইবে। আচার্য ব্যাসতীর্থ তাহার ন্যায়ামৃত গ্রন্থের চতুর্থ পরিচ্ছেদে মোক্ষ বিষয়ে তাহার আপত্তিসমূহ উপস্থাপন করিয়াছেন। চতুর্থ পরিচ্ছেদের প্রথম অধ্যায়ের প্রথম প্রकरण অবিদ্যানিবৃত্তি প্রकरणে আরম্ভে ন্যায়ামৃতকার অদ্বৈত বেদান্তীদের প্রশ্ন করিয়াছেন যে, অদ্বৈত বেদান্তী যে অবিদ্যার নিবৃত্তি বা অবিদ্যার অপগম মোক্ষস্বরূপ বলিয়া থাকেন তাহা যুক্তিসঙ্গত নহে, ইহাতে ন্যায়ামৃতকার অদ্বৈতীকে প্রশ্ন করিয়া থাকেন যে—